এ রোগ চারায় এবং বয়স্ক গাছে দু’ধরণের লক্ষণ সৃষ্টি হয়।
চারা অবস্থায় একে নেতিয়ে পড়া বা চারা পচা (ক্রিসেক) বলে এবং বয়স্ক অবস্থায় একে পাতাপোড়া রোগ বলে। চারার বাইরের পাতা হলদে হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে খড়ের রঙে পরিণত হয় ফলে নতুন পাতা ও তেমনি ভাবে শুেিকয় যায় এবং চারা নেতিয়ে পড়ে। চারার গোড়ায় হাত দ্বারা চাপ দিলে পুঁজের মত দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ বের হয়।
বয়স্ক গাছে প্রথমে পাতার কিনারায় এবং আগায় ছোট ছোট জলছাপের মতো দাগ দেখা যায়। এ দাগগুলো আস্তে আস্তে বড় হয়ে পাতার দু’প্রান্ত দিয়ে নিচের বা ভিতরের দিকে অগ্রসর হয় আক্রান্ত অংশ বিবর্ণ হতে থাকে ও ধূসর বাদামী বর্ণে পরিণত হয় যা ঝলসানো বা পাতা পোড়া বলে মনে হয়।
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনাঃ
চারা উঠানোর সময ক্ষত না হওয়া।
আক্রমণ প্রবণ জাত চাষ না করা।
ইউরিয়া সার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার না করা।
সব ইউরিয়া চারা বা কুশি অবস্থায় না দিয়ে ২/৩ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করা।
রোগ দেখা দিলে জমির পানি শুকিয়ে ৭-১০ দিন পর আবার পানি দেয়।
চারা অবস্থায় রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত চারা তুলে ফেলে পার্শ্ববর্তী গাছ থেকে কুশি এনে লাগিয়ে দিলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।
ধান কাটার পর জমিতে নাড়া ও কড় পুড়ে ফেলাপ।
আক্রান্ত জমিতে ৫০-১০০ গ্রাম পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে বিকালে স্প্রে করা।
পটাশ সার বিঘাপ্রতি ৫/৬ কেজি উপরি প্রয়োগ করা।
কুশিকারৈ ঝড়ের পর পরই ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা।
উপশম ৭৮ ডব্লিউপি ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা। প্রয়োজনে ১% বর্দোমিকচার ব্যবহার করা যেতে পারে।