ফেব্রুয়ারী/মার্চ মাসে গাছ যখন ফুল ও ফল ধারন করে তখন এ রোগ দেখা যায়।
বৃষ্টিপূর্ণ, কুয়াশাচ্ছন্ন বা মেঘলা আবহাওয়া এ রোগ বেশী হয়।
ঘন শস্য ও গাছের ঝোপের জন্য রোগ বিস্তার হয়।
পুরাতন পাতা হলুদ বর্ণ হয়ে মারা যায়। রোগ বেড়ে গেলে বাদামী রং ধারণ করে এবং পচন দেখা যায়। ফুল/ফল শূন্য হয়।
ছোলার বৃদ্ধি অবস্থায় কিংবা ফল আসার শুরুতেই এ রোগের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকার পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময়ে ভারি বৃষ্টি হলে, বাতাসে আর্দ্রতা শতকরা ৯৫ ভাগ বা বেশি থাকলে এবং জমিতে গাছ বেশি ঘন হলে এ রোগ ব্যাপকতা লাভ করে।
রোগের লক্ষণ কাণ্ড , পাতা, ফুল ও ফলে প্রকাশ পায়। আক্রমণের ৫-৭ দিনের মধ্যেই গাছের ভিতরের পাতাগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
রোগের জন্য অনুকূল আবহাওয়া বিরাজমান থাকলে আক্রান্ত হলুদ পাতাগুলো ক্রমশ শুকিয়ে যেতে থাকে। শুকনো পাতা বিশিষ্ট এরূপ গাছ রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুরে ঝাঁকুনি দিলে আক্রান্ত পাতার স্পোর ধুলার মত উড়তে থাকে। আক্রান্ত স্থানে ধূসর রঙের ছত্রাকের উপস্থিতি দেখা যায়।
আক্রান্ত ফলের ভিতরে সাদা বর্ণের মাইসেলিয়াম দেখা যায় এবং ফলগুলো পরিপুষ্ট না হওয়ার কারণে বীজগুলো কুঁচকানো আকৃতির হয়।
আক্রান্ত ফলের ভিতরে সাদা বর্ণের মাইসেলিয়াম দেখা যায় এবং ফলগুলো পরিপুষ্ট না হওয়ার কারণে বীজগুলো কুঁচকানো আকৃতির হয়।
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনাঃ
বি জি এম প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করা, যেমন বারি ছোলা- ১, ৫।
ছোলার গাছ পাতলা করা (প্রতি বর্গ মিটারে ২০ টি গাছ)
অতিরিক্ত সেচ প্রয়োগ না করা।
অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা।
আক্রান্ত বীজ বপন না করা।
বীজ শোধন করা (প্রতি কেজি বীজে ২ গ্রাম কাডিম ৫০ ডব্লিউপি দ্বারা বীজ শোধন করা ) ।
যদি ফুল ঝরে যায় তবে কাডিম ৫০ ডব্লিউপি ১ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।
উপশম ৭৮ ডব্লিউপি ২ গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে ৭ দিন অন্তর অন্তর বিকাল ৩ টার পর ৩ বার স্প্রে করলে এ রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায় এবং ফল বৃদ্ধি পায়।